মোঃ কামাল উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি:
বনের জমিতে সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোনো কিছুই করার বিধান না থাকলেও হারবাং বনবিটের অধীনে খোদ বনবিভাগের পাহাড় কেটেই চলছে স্থায়ী পাঁকা দালান নির্মাণ। যার নেপথ্যে ওইসব চিহ্নিত বনখেকোদের সাথে বনবিট কর্মচারীদের যোগসাঁজশ রয়েছে বলে জানা গেছে। ওইসব চিহ্নিত বনখেকোরা রেঞ্জ কর্মকর্তার অগোচরে বনবিট কর্মচারীদের অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে পরিবেশের এমন ধ্বংসযজ্ঞ। সরেজমিন গেলে দেখা যায়, হারবাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় জিয়া উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি পাহাড় কেটে সমতলে পরিণত করে নির্মাণ করছেন স্থায়ী পাকা দালান-ঘর। ওই পাকা দালান ঘর নির্মাণের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পাকা দালান ঘর নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকরা। পরে তাদের গতিরোধ করে বসতবাড়ি নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছুই জানেন না বলে জানান। পরে নির্মাণাধীন ওই বসতবাড়ির মালিক জিয়া উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে সরে যাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, হারবাং বনবিটের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে বনখেকোদের এমন নগ্ন রামরাজত্ব চলে আসলেও নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে বনবিট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে, তাদের এমন নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন বনখেকোরা ধ্বংস করে যাচ্ছে বনবিভাগের পাহাড় ও বনভূমি। এবিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান। পরে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) দেলোয়ার হোসাইনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বনবিভাগের জমিতে কোন ধরনের বসতি নির্মাণের সুযোগ নেই। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি